বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন
মহেশখালী প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ওপর চার মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব এলাকা থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দায়ের করেন মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ জয়নাল আবেদীন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মহেশখালী চ্যানেলের ভারুয়াখালী মোহনা ও বাঁকখালী মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন থেকে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার মাসের জন্য বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিটে অভিযোগ করা হয়, মহেশখালী উপজেলার হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জেলা প্রশাসক কক্সবাজার থেকে অনুমতি দেওয়া হয়। তবে ওই অনুমতির শর্ত অমান্য করে মহেশখালী চ্যানেল, আদিনাথ পাহাড় এলাকার মোহনা ও বাঁকখালী খালের মোহনা থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
রিটকারী সাংবাদিক মহেশখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, “আজ (৯ সেপ্টেম্বর) মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের কপি কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে দিয়ে অবগত করেছি। মহেশখালী একটি দ্বীপ উপজেলা। নানা কারণে এলাকাটি এমনিতেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে নিয়ম লঙ্ঘন করে মহেশখালীর মোহনার চরাপাশ থেকে বালু উত্তোলন করা হলে ভবিষ্যতে আদিনাথ পাহাড়সহ আশপাশের পরিবেশ ও দ্বীপের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই সরকারি অনুমোদন ও ওয়ার্ক অর্ডারের শর্ত অনুযায়ী পরিবেশের ক্ষতি না করে কাজ করা হোক। কিন্তু কোনোভাবেই নিয়ম লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলন করা উচিত নয়।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, “হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে এখনো অফিসিয়ালি কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মামনুন মাহমুদ অনীক বলেন, “মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে আজই অবগত হয়েছি। আদেশটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএল-জেভি কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর প্রকল্পের প্রয়োজনে বালু উত্তোলন এর জন্য জেলা প্রশাসক কক্সবাজার থেকে মহেশখালী উপজেলার হামিদারদিয়া মৌজা ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলন এর অনুমতি গ্রহণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিকে ১৩টি শর্তে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হলেও সেসব শর্তের কয়েকটি যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদনে ১৮ ইঞ্চি কাটার ড্রেজার ব্যবহারের শর্ত থাকলেও সেখানে ১২ ইঞ্চি সাকশন ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক পরিবেশ ও উপকূলীয় এলাকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া অনুমোদনের অন্যতম শর্ত হিসেবে পরিবেশগত ছাড়পত্রের পাশাপাশি এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা না করেই বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তরে ছাড়পত্র বা ইআইএর জন্য আবেদন না করারও অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে জেলা প্রশাসন নির্ধারিত রয়্যালটি জমা দেওয়া ছাড়া অনুমোদনের অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিমানা: এর আগে গত ২১ জুলাই পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’কে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়।”
তবে জরিমানার পরও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে হাইকোর্টের চার মাসের নিষেধাজ্ঞার আদেশের পর মহেশখালী চ্যানেলের উল্লেখিত দুই মোহনা থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। এখন আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
ভয়েস/ জেইউ।